Showing posts with label এ ও বিরক্তি. Show all posts
Showing posts with label এ ও বিরক্তি. Show all posts

Saturday, June 17, 2006

অর্জুনের লক্ষ্যভেদ ও অন্যান্য গল্প

( পূর্ব প্রকাশিতের পর)


…তোমরা তো দূর্লভ ও কাত্যায়নীর কথা জান, তাই আর নতুন করে বলার কিছু নেই৷

একটা লোক ছিল পাঁড় মাতাল, রাস্তার পর শুয়ে শুয়ে, লর্ডসের খুব কাছাকাছি, আনোয়ার শাহ, ভাবে আমি কোন এক শাহ,
আকাশে এক গোল চাঁদ পিটিস পিটিস চায়, আস্তে আস্তে চাঁদ দ্রবীভূত হয়ে যায় তার পাকস্থলীতে, কি ঝামেলা রে বাবা, এই
মালটা আবার কে, ভাবলো দুই টিনিয়াসোলিয়াম…


টি 1 - এই কি অমৃত ভান্ড?
টি 2 - দূর, তোর আবার সবে তেই রাহু কেতু কেস !
টি 3- এই, সেদিন টিভিতে দেখলে না?
টি 2 - ক্যাটারিনা কঈফ? ও কি নাচ, গোলা৷৷
টি 1- না , না আমি সে কথা বলি নি তো?
টি 2- তুই কাটা, আমি গুরু হ্যাংওভারে মরি৷৷৷ উল্লুস!
টি 2 - না বাবা না, আমি সে পাগল কিছুতেই হব না৷
টি 3 - এই যে জেমসরা এসেছিল যেইদিন, কোথায় ছিলে তুমি ?
টি 1- আসলে অমৃতের ভান্ড ইমেজটার মধ্যে , লক্ষ্মী আছে না, বেশ ধোঁয়া, ধোঁয়া,… হাতে অমৃতের ভান্ড, আরে না: কিশোরকুমার…


… কথা চলে, বিষষিন²য়া, মানুষ মশগুল থাকে আপন ষিনভূজে, তাই থাক, আমরা বর ংসেই রাস্তায় শুয়ে থাকা লোকটার কথা ভাবি, নীরবতা পালনের মত, আঁচল উড়িয়ে তুমি বেশ চলে যাও অটোতে, ভুকভুক ওড়ে ধোঁয়া, তুমি পেয়ে গেছো তোমার আজ রাতের মানুষটিকে, তার কথা ভেবো, বর ংথাকো অনাহারে, লিখো সেই কথা, আরো দু-চারটে জখজ উড়ে আসে, যেন দ্রৌপদী এবার স্বয়ম্বরা…


… মানুষ শুয়ে থাকে রাস্তায় ও রাস্তায়, শীত নামে, অ্যান্টিবায়োটিক ঊত্পন্নের লক্ষ্যে পৃথিবীর গভীরতর অসুখ এখন, লোকটি একবার চাঁদটি খায় ও বের করে ছেড়ে দেয় আকাশে, একটু আগে জয় গোস্বামী বাসের রড ধরে ঝুলতে ঝুলতে কবি হয়ে গেছেন, হাতে তার ব্যার্থ ইয়ো-ইয়ো, মানুষটি শুয়ে থাকে প্রবল ও পরাষন²ম এবা ংপাকস্থলী শুদ্ধ…





টিনিয়াসোনারা এখন কথা বলে সেক্স নির্ধারণ ও মোবাইল ফোন নিয়ে…

টি 2- তুই রিংটোন যে ডাউনলোড করলি , আমায় পাঠালি না তো?
টি 1 - তোর নামে লাগিয়ে দিয়েছি…
টি 2 - কই শোনা…
টি 1 - মিস কল দে…
টি 3 - আমার বাপু ফোনের আওয়াজ শুনলেই বুকের ভেতর ধড়-ফড় করে …
টি 2 - ও তার জন্যেই এই মাদুলিটা৷৷
টি 3 - আমার দাদা করে দিয়েছে…

( Ring tone ) এই পথ যদি না শেষ হয়…

বেজে ওঠে ফোন, সুতরা ংকারুর বুক ধড়ফড়, কারো বুক ভেসে যায় আনন্দে৷

শিরা কাহিনী

শিরা কাহিনী শিরশির করতে পারে, কিন্তু কখনই সিরিয়াস নয়, কাজেই, নো হেলাফেলা : বিধিগত সতর্কীকরণ৷


গাছের তলায় যেমন থাকে, আমারও কিছু শিরা ছিল, আমার শরীরে, শরীরটা যদিও গাছ ছিলনা, শিরাগুলোকে আগাছা ভাবলেও ক্ষতি নেই, ছিল ব্যস, ছিল৷


শিরা বেয়ে সমস্ত রুটে, বে-রুটে, স্কয়ার রুটে, রুটি রুটি আইল্যান্ড ঘিরে চরে বেড়াত সমস্ত অটো, শিষ দিতে দিতে এ শিস মহল থেকে ও শিস মহল৷ শিশি-বোতলদের কেউ কেউ দদ দদ করতে করতে চার্লি চ্যাপলিন হয়ে যায়, ফলত: ছি: ছি: আমি তোমায় দেখেছি, শিরায় শিরায় যেমন উত্তেজনা, হাওয়া ছোটে, পাল বয়৷ বোতলের গায়ে জড়িয়ে দেওয়া ও উপ-শিরা, উপ-সংহার উপহার দেওয়ার মত পার্থপ্রতিম দেব সেগুলো জড়িয়ে দেয় গায়ে, শিশি বোতলদের গায়ে, বোতল বোতল থাকেনা, বাসুকি সাপের মত গোটানো প্যাচানো কেস, কেসের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেল অমৃত সঘন, বা কেশদামে৷ শিরার ভেতর তোমাদের বাগান, হলুদ বেগুনী ফুল, সেলোফেন পেপার, খসখস, চারটাকা ভাড়া আন্দোলন৷ শিরার উপর বসতবাড়িগুলি, এ তলায় পাঙ্খা বাড়ি, ও তল্লাট হিলকার্ট৷ না নড়া, না চড়া বাড়িগুলি, বড় কুড়ে, কুড়েঘর নয়৷ রক্তে লাল আকাশ, আমার শিরা ও উপশিরাগুলি অপসৃয়মান জেট পরবর্তী ধাবমান রেখা, প্যারাসুট সুতো সংকল্প, হেলিকপ্টার ডানা, বনবন৷


যদি চাকুর জন্ম হয়, শিরাগুলি কাট কুচিকুচি, ভাজো ছাঁকা বাদামতেলে, হেব্বি স্বাদ সুগন্ধ অমলিন, ভুরু কুঁচকানো চোখ, যদি মনে পড়ে৷ শিরাগুলি, ভূমিকায় লেপ্টে থাকা চাদর ও অলক কুন্তল, বসতবাড়ি ও উপচিকীর্ষু সঘন নীলে রাষিন টেনে আনে, তারায় তারায়, ভ্যান গঘ রাষিন৷ বিষ রক্ত বয়ে চল শিরা, হয়ে ওঠ তরবারী আভিজাত্যের কোপে, কাস্তে যেন বাঁকা চাঁদ, হয়ে ওঠ গান, নিশীথ সমুদ্রে, সার সার জাহাজের আনাগোনা, হেলেন দাঁড়াবেন এসে, ট্রয় নগরী ও উত্তেজনা৷ সামাল সামাল, হেইয়ো হেইয়ো ভাই, চিকচিক বালি ভরে ওঠে সব মৃত মাছগুলি, জাল টানা শেষ, নৌকা ফিরেছে পাড়ে, বিন্দু হয়ে ওঠা আলোকপুরে জাহাজগুলি দীর্ঘ:শ্বাস ফেলছে পাড়ে এসে, মৃত মৃত মৃত মাছগুলি, মৃত চোখ ও চোখ ও চোখের সমন্বয়৷ কাজেই শান্ত এখন শিরা ঢিলেঢালা রাষিনর পাহারা, জোয়ার এখন ভাটা, জীবন তাই সাদামাটা৷


যদি এগুলো-ই হয়ে ওঠে তোমার রেলের লাইন, ট্রাম ট্র্যাকগুলি বেঁধে ফেল বান্ডিল বান্ডিল সুতোয়, পড়ে থাকে ষ্টেশন ও পাউরুটি, কুকুরেরা খেলা করে, বাঁকা লেজ সোজা করে, সহস্র জীবন, অনুক্ষণ, গতি গতি গতি, অগতির গতি, সশব্দে ছুটে যাও ট্রেন, বিন্দু ঘামগুলি জেগেছে শরীরে, উপাস্য কেবল নয়, চাহিবারে হয়, চাঁইবাসা ব্যান্ডেল মুম্বাই৷ প্রশ্নহীন শিরাগুলি হয়ে যায় ভারতের রাজনৈতিক নকশা, মানচিষন জেগে ওঠে শিরায় শিরায়, হাতের মুদ্রায় কার্জন দেখাবেন কথাকলি, তালু জুড়ে রঙ, সবুজের উপর সাদা রঙ, সরের প্রলেপ, কম্বল চাদর লেপ, সিটি ও প্রেশার কুকার, গড়িয়ে পড়া জলবিন্দুগুলি গাষনময়, ভেঙে যায় শিরা ও উপশিরায়, শরীরের উপর ছোট্ট শরীরের অংশ ফুঁসে ফুঁসে ওঠে, বেজে ওঠে সিটি ঘাম কুকার৷


লতায় পাতায়, সম্পর্ক যেমন বাড়ে, শিরায় শিরায় ডালে ডালে পাতায় পাতায় গেরস্থালী, কাঠবেড়ালী, পেয়ারা তুমি খাও? পুটুস পাটুস, ছাদঘরে যাও, পাকেচষেন², চষন²রেলে বাগবাজার, ছেঁড়া তার ও সরোদে, রৌদ্রময় জীবন তোমার,স্বক্ষেদে শিরাগুলি সুবিন্যস্ত, যেন ছাতার উল্টোপিঠ, থরে থরে সাজানো, পাতাল সিড়ি কাঁচের চুড়ি স্লাইস পাউরুটি৷ কথা নেই, বার্তা নেই, প্রিয়া তুমি ফুটে ওঠ ডিজিটাল অক্ষরে, এই ফোন এলো বুঝি? মেঘ মাটি বায়ু, কে ধরিবে হায়, শিরায় শিরায়৷ কেবল বই হাতে থাকে, উল্টে যাওয়া পাতাগুলি, অক্ষর মুদ্রিত এইখানে, স্নায়ু ভ্যানিটিব্যাগ পরবেশ৷ টুসুতে মেতেছে লোকজন দীর্ঘ সূর্যের ছায়া নদীগুলি ধরেছে ঘিরে, জাতি জনজাতি উপপদগুলি, হাস-পিঠা হাঁড়িয়া হাই, তোল,টেনে তোল হাইহিল নদী বালু থেকে৷ নদীগুলি, শিরায় শিরায় বয়ে যাওয়া নদীগুলি নকশা ভুলে, কিঞ্চিত দ্বিধাগ্রস্ত ও ব্যাসদেব কমন্ডুলু ফেলে চলে এসেছেন রেল কম্পার্টমেন্টে, ফেল ঝতভর ও ফেয়ারি টেল ...


সুতরাm আখ্যান আরম্ভ৷